সিলেট ভ্রমণ- মু. হামিম সরকার
সিলেট ভ্রমণ
মু. হামিম সরকার
বগুড়া থেকে রাত ৮.৩০ টায় সিলেটের উদ্দেশ্যে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। রাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোরের আলোয় আমরা সিলেটে পৌঁছলাম। । আমরা সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে ফজর নামাজ আদায় করলাম।
নামাজ শেষ করে সকালের খাবারের পর আমরা পূর্বেই নির্ধারিত হোটেলে গিয়ে আমাদের ব্যাগ রেখে কিছুটা বিশ্রাম নিলাম। হোটেল থেকে বেরিয়ে আমরা হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে গিয়েছিলাম (শাহজালাল (রহ.) (আরবি: شاه جلال; ১২৭১ – ১৩৪১) ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি দরবেশ। তার পুরো নাম শাহ মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন কুনিয়াত মুজাররদ। ১০ হিজরী মোতাবেক ১৩ খ্রিষ্টীয় সালে ৩২ বছর বয়সে ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে অধুনা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।)। সেখানে কিছুক্ষণ থেকে আমরা সিলেটের বিখ্যাত স্থান ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরে পৌঁছে আমাদের চোখের সামনে বিস্ময়কর দৃশ্যের অবতারণা ঘটলো। । পাহাড় ঘেঁষা নদী, নদীর শান্ত প্রবাহ এবং সবুজ পাহাড়ের দৃশ্য মনমুগ্ধকর। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের অবাক করে দেয়।
ফিরতি পথে আমরা সবাই চা বাগানে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিলাম। অবশ্য হোটেল থেকে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরে যাওয়ার পথে বাসেই চা বাগান দেখতে পারি। চা বাগানের শীতল বাতাস, সবুজ গাছের সারি এবং নিরবম মনোরম পরিবেশে আমরা কিছু সময় কাটালাম। চা বাগানে হাঁটতে হাঁটতে আমরা চায়ের পাতা সংগ্রহ, চা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানলাম এবং স্থানীয় খাবার স্বাদ নিলাম।
চা বাগান মাগরিবের সময় হোটেলে পৌঁছালাম এবং সবাই একত্রে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর আমরা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলাম। রাতের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যতটুকু সম্ভব দেখলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত এক ভাইয়ের সাথে। রাতে সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় দেখার সুযোগ হয়ে উঠলো না আর তাই সবাই হোটেলে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম।
পরের দিন ফজরের সময় সবাই উঠে একত্রে ফজরের সালাত আদায় করলাম এবং নামাজ শেষে সকালের খাবার খেয়ে জাফলংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। জাফলং পৌঁছাতে আমাদের কিছুটা সময় লেগে গেল, কিন্তু পৌঁছানোর পর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধুর্য আমাদের অপেক্ষার কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। এখানে নদীর স্বচ্ছ পানি, পাহাড়ের দৃশ্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করে।
জাফলংয়ের নদীতে নৌকা ভ্রমণ করে আমরা খাসিয়া পল্লীতে যাই। খাসিয়া পল্লির স্থানীয় জীবনধারা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং সংস্কৃতি আমাদের বিস্মিত করে। এখানকার মানুষের আতিথেয়তা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পর আমরা জাফলং থেকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে ফেরার প্রস্তুতি নিলাম।
আমাদের সফরটি ছিল সংক্ষিপ্ত। বগুড়া ফিরে যাওয়ার পথে আমাদের সিলেটের অভিজ্ঞতা এবং স্মৃতিগুলো মনে গেঁথে থাকলো। মহান রবের কি অপরূপ সৃষ্টি! সত্যি চোখ জুড়িয়ে যায়, মন ভরে যায়, অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। পরের দিন ফজরের সময় বগুড়ায় পৌঁছে আমাদের সিলেট সফরের সমাপ্তি ঘটলো, কিন্তু সিলেটের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির সুর আমাদের সাথে থেকে যাবে চিরকাল।